Wednesday, 28 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আরও পিছোল, ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে উভয় পক্ষকে বক্তব্যের সমর্থনে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ আমরাও একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে আবেয়া -এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত: প্রকৌশলী-স্থপতীদের মিলনমেলা নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, শোকের ছায়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনে Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone শেখ হাসিনার স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সমাবেশ নিউইয়র্কে, আগামী ডিসেম্বরে শেখ হাসিনার সঙ্গে দেশে ফেরার প্রত্যয় আওয়ামী লীগ নেতাকর্মীদের ৭৫ দেশের অভিবাসী ভিসায় অনিশ্চয়তা, আদালতের নির্দেশের পরও কাটেনি জট নিউইয়র্কে হিউম্যান সাপোর্টের বিনামূল্যে ফ্লু টিকাদান কর্মসূচি অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক নীতিনির্ধারণের কেন্দ্রে মানবাধিকারকে রাখতে হবে: জাতিসংঘে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
সব ক্যাটাগরি

আমরাও একদিন মরে যাবো

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 155 বার

প্রকাশিত: October 28, 2026 | 8:11 pm

হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী: নাহমাদুহু ওয়া নুসাল্লি আলা রাসূলিহিল কারীম, আম্মা বা’দ, আমরাও একদিন মরে যাবো—এটি একটি চিরন্তন সত্য এবং মানুষের জীবনের সবচেয়ে বড় বাস্তবতা। হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, তিনি প্রায়শই তাঁর আলোচনা ও ফেসবুক স্ট্যাটাসে মানুষের ক্ষণস্থায়ী জীবন, পরকাল এবং মৃত্যুর প্রস্তুতি নিয়ে অত্যন্ত আবেগঘন ও উপদেশমূলক কথা বলে থাকেন। ইসলামী দৃষ্টিকোণ থেকে মৃত্যুর এই স্মরণ ও শিক্ষা সম্পর্কে কিছু গুরুত্বপূর্ণ দিক নিচে তুলে ধরা হলো:
জীবন ক্ষণস্থায়ী: দুনিয়ার এই জীবন চিরস্থায়ী নয়। চাওয়া-পাওয়া, অহংকার কিংবা ব্যস্ততা—সবকিছুই একদিন মৃত্যুর মাধ্যমে থমকে যাবে।
মৃত্যুর প্রস্তুতি: পবিত্র কুরআনে বলা হয়েছে, “প্রত্যেক জীবকেই মৃত্যুর স্বাদ গ্রহণ করতে হবে।” (সূরা আল-ইমরান: ১৮৫)। তাই বুদ্ধিমানের কাজ হলো মৃত্যুর পরের চিরস্থায়ী জীবনের জন্য নেক আমল ও ইবাদতের মাধ্যমে প্রস্তুতি নেওয়া।
পাপের অনুশোচনা: যেকোনো সময় ডাক আসতে পারে—এই ভাবনা মানুষকে অন্যায় ও পাপের পথ থেকে দূরে রাখে এবং আল্লাহর দরবারে খাঁটি তওবা করতে উদ্বুদ্ধ করে।
মানুষের প্রতি সদাচরণ: দুনিয়াতে আমরা সামান্য সময়ের জন্য এসেছি। তাই কারো মনে কষ্ট না দিয়ে, সবার সাথে ভালো ব্যবহার করা এবং মানুষের কল্যাণে কাজ করাই প্রকৃত মুমিনের বৈশিষ্ট্য।
মৃত ব্যক্তির আর্তনাদ: রাসুল সল্লাল্লাহু আলাইহি ওয়া সাল্লাম বলেছেন-মৃত ব্যক্তির জন্য ঐ সময়টা খুব কষ্টকর হয়, যখন তাকে তার গৃহ হতে বের করা হয় এবং তার পরিবারের সবাই তার জন্য কাঁদতে থাকে।
এর চেয়ে বেশি কষ্ট হয় তখন, যখন তাকে কবরে শুয়ায়ে তাকে মাটি দেয়া হয়, এবং তাকে একা ফেলে সবাই চলে আসে।
আরো কষ্ট হয় যখন শরীর হতে কাপড়,অলংকার,
আংটি,খুলে নেয়া হয়। সেই সময় তার রুহ উচ্চস্বরে চিৎকার করতে থাকে, এ চিৎকার জীন ও মানুষ ছাড়া অন্য সবাই শুনতে পায়। সে তখন চিৎকার করে বলতে থাকে- তোমাদেরকে আল্লাহর কসম আমার শরীরের কাপড় চোপর, অলংকার, ধীরে ধীরে খুলো, যেহেতু এই মাত্র আমি মালাকুল মউতের কঠিন আযাব হতে নিস্কৃতি পেয়েছি।
যখন মৃত ব্যক্তির দেহ মর্দন করা হয়- তখন সে বলেতে থাকে-হে গোসল দাতাগণ, আমার দেহে জোরে মর্দন করোনা, কেননা মালাকুল মউতের কঠিন আযাবে আমার দেহ,ক্ষত -বিক্ষত হয়ে গেছে।
যখন মৃতকে কাফন পড়ানো হয় তখন মৃত দেহ বলতে থাকে, হে কাফন দাতাগণ, আমাকে এত তাড়াতাড়ি কাফন পরাইও না, আমার স্ত্রী, সন্তান,আত্মীয়স্বজন, বন্ধু-বান্ধবদেরকে শেষ বারের মত দেখতে দাও।
তাদের সাথে ইহাই আমার শেষ দেখা। কেয়ামতের আগে আর তাদের সাথে আমার দেখা হবে না।
যখন মৃত ব্যক্তিকে তার বাড়ি থেকে কবরস্থানে নিয়ে যাওয়া হয় তখন সে বলতে থাকে হে আমার আত্মীয়-স্বজন, তোমাদেরকে আল্লাহর কসম, এত তাড়াতাড়ি আমাকে কবরস্থানে নিয়ে যেওনা, আমার বাড়ি,ঘর, স্ত্রী, কন্যা,সবার কাছ থেকে বিদায় লওয়ার জন্য একটু সুযোগ দাও।
হে আমার আত্মীয় -স্বজন, আমি আমার স্ত্রীকে বিধবা এবং সন্তানদেরকে এতিম করে যাচ্ছি। তোমরা তাদেরকে কষ্ট দিওনা। তাদের প্রতি অবিচার করোনা। আমি এখন সবকিছু ছেড়ে চলে যাচ্ছি, আর কখনো ফিরে আসবো না। তোমরা তাড়াতাড়ি করোনা, আমাকে সবার কাছ থেকে বিদায় লওয়ার সুযোগ দাও। যখন মৃত ব্যক্তিকে-গুরস্তানের দিকে নিয়ে যাওয়া হয়, তখন সে বলেতে থাকে হে আমার বংশধরগণ, হে আমার আত্মীয়-স্বজন, হে আমার প্রতিবেশী, তোমরা যেন আমার মত দুনিয়ার মায়ায় পড়ে আরাম আয়েশে আখেরাতের কথা ভুলে যেওনা।
তোমরা লক্ষ করে দেখ, আমি আল্লাহর নাফরমানি করে হালাল হারামের প্রতি লক্ষ না করে,যে ধন দৌলত কামায় করেছিলাম তার কিছুই আমার সাথে যাচ্ছে না। সব ওয়ারীশগণ বন্টন করে নিচ্ছে। আমার সাথে যাচ্ছে শুধু আমার পাপরাশি। যাদের জন্য আমি পাপ করেছিলাম তারা বিন্দুমাত্র পাপের ভাগ নিচ্ছে না।
যখন জানাজার নামাজ শেষে কিছু লোক চলে যেতে থাকে তখন মৃতব্যক্তি বলতে থাকে- হে বন্ধুগণ তোমাদের সাথে আমার কত ভালবাসা ছিল, এখন কেমন করে আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছো! দাফনের কাজ শেষ করে আমার জন্য একটু দোয়া করে যাও।
হে বন্ধুগণ-সত্যিই তোমাদের কাছে আজ আমি অপ্রিয় হয়ে গেছি। কিন্তু এমন এক সময় ছিলো তোমরা আমাকে না দেখে এক দিনও থাকতে পারতেনা।
টাকা,পয়সা, ধনসম্পদ, সব কিছু তোমাদের জন্য রেখে যাচ্ছি, আর কোনো কিছু তোমাদের কাছে চাইবো না। শুধু একটু দোয়া করে যাও।
টাকা,পয়সা, সবকিছু আমি রেখে গেছি। ভোগ বিলাসে মক্ত হয়োনা। আমার জন্য কিছু দান-খয়রাত করিও, দোয়া কালাম পড়িও, আমার রুহের উপর বখশিশ দিও। মনে রেখ, আমার মত তোমাদেরকেও একদিন চলে যেতে হবে।
হে আল্লাহ আমাদের সবাইকে আপনি মাফ করে দাও আল্লাহুম্মা আমিন।

-হাফিজ মাছুম আহমদ দুধরচকী, লেখক: বিশিষ্ট ইসলামী চিন্তাবিদ লেখক ও কলামিস্ট, সাবেক ইমাম ও খতীব: সিলেট নগরীর কদমতলী হযরত দরিয়া শাহ রহ. মাজার কেন্দ্রীয় জামে মসজিদ সিলেট, সাবেক প্রিন্সিপাল: হযরত শাহজালাল রহ. ৩৬০ আউলিয়া লতিফিয়া হাফিজিয়া মাদ্রাসা উপশহর সিলেট, সাবেক প্রধান শিক্ষক: তৈয়ব কামাল হযরত শাহজালাল রহ. লতিফিয়া হাফিজিয়া দাখিল মাদ্রাসা সিলেট।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ