Tuesday, 27 October 2026 |
শিরোনাম
New York Attorney General James Announces Election Protection Hotline Ahead of November General Election ASAAL’s 19th Annual Convention Draws Nearly 500, Calls for Stronger Civic Engagement and Workers’ Rights দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ নিউইয়র্কে ট্রাফিক এজেন্ট ইউনিয়নের সভায় দুই বাংলাদেশি নেতাকে ঘিরে সংঘর্ষ; আটক একজন পুলিশি হেফাজতে নেওয়ার পর মুক্তি, হাসপাতালে চিকিৎসা নিয়েছেন খান শওকত নিউইয়র্কে আ্যসালের পাঁচ শতাধিক অংশগ্রহণকারীর সমাবেশে শ্রমিক অধিকার, নাগরিক ক্ষমতায়ন ও রাজনৈতিক প্রতিনিধিত্ব নিশ্চিতের অঙ্গীকার নিউইয়র্কে মামলার কারণে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিতের প্রতিবাদে ব্রঙ্কসে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদের সমাবেশ যুক্তরাষ্ট্রপ্রবাসীর ছেলে সাগরের মৃত্যু: ‘হানি ট্র্যাপে’ হত্যার অভিযোগ, তদন্ত পিবিআইতে দেওয়ার দাবি, নিরপেক্ষ তদন্তের আহ্বান নিউইয়র্কে আদালতের নিষেধাজ্ঞায় বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন স্থগিত, ৫ নভেম্বর পরবর্তী শুনানি; সংবাদ সম্মেলনে আইনি পরিস্থিতি ব্যাখ্যা নির্বাচন কমিশনের চরমোনাই পীর সৈয়দ রেজাউল করীমের যুক্তরাষ্ট্র সফর উপলক্ষে নিউইয়র্কে দোয়া মাহফিল ওয়ার্ল্ড হিউম্যান রাইটস ডেভেলপমেন্ট ইউএসএর সাধারণ সম্পাদক ড. সাদিয়া
সব ক্যাটাগরি

দেহের মেহরাবে অনন্তের দীপ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 142 বার

প্রকাশিত: October 27, 2026 | 2:06 am

মুখখানি মেলে ধরো—আমার আকাঙ্ক্ষা ফুলের বাগান;
অধর খোলো—আমার তৃষ্ণায় মধুর সমুদ্র।— মাওলানা জালালউদ্দিন রুমি

মোস্তফা সারওয়ার
আজ সমস্ত আবরণ খুলে রাখো, প্রিয়তমা—

রাত্রির কালো চাদর,
লোকলজ্জার জাফরানি ওড়না,
পাপ-পুণ্যের পুরোনো পাণ্ডুলিপি,
এমনকি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে থাকা
নিজের নামটুকুও।

এসো, নগ্ন হই—

যেমন গোলাপ নগ্ন হয় নিজের সুবাসে,
যেমন মরুভূমি খুলে দেয় বক্ষ
চাঁদের রুপালি আঙুলের কাছে,
যেমন হাফিজের পেয়ালায়
আঙুরের রক্ত থেকে জন্ম নেয়
ঈশ্বরবিস্মৃত এক স্বর্গের নেশা।

তোমার শরীর আজ কোনো নিষিদ্ধ গ্রন্থ নয়—
পারস্যের নীল টালির মসজিদ,
যার প্রতিটি বাঁকে বাঁকে
জ্যামিতির অন্তরালে ঘুমিয়ে আছে
একটি অনন্ত বৃত্ত।

তোমার কাঁধে চাঁদের আলো পড়লে
আমার সমস্ত দর্শন থেমে যায়।

অস্তিত্বের ভারী দরজা খুলে
হাওয়া ঢুকে পড়ে আমার ভিতরে;
আমি বুঝতে পারি,
সত্যকে কেবল চিন্তা করে পাওয়া যায় না—
কখনো কখনো তাকে ছুঁতে হয়
একটি কাঁপতে থাকা আঙুলের উষ্ণতায়।

তোমার নগ্নতা
কোনো প্রদর্শনীর শ্বেতপাথর নয়,
কোনো বিজয়ীর পতাকা নয়—
এ আমার চোখের সামনে
প্রকৃতির আদি স্বীকারোক্তি।

এখানে লজ্জা তার মুখোশ খুলে রাখে,
কামনা তার আদিম নাম ফিরে পায়,
আর শরীর—
যাকে যুগে যুগে আত্মার কারাগার বলেছি—
হয়ে ওঠে আত্মারই খোলা জানালা।

এসো, প্রিয়তমা,
তোমার অধরের কাছে আমার অধর রাখি
যেন দুই তৃষ্ণার্ত মরূদ্যান
একই বৃষ্টির অর্থ শিখছে।

তোমার চুম্বনে
ডালিমের দানা ফেটে ওঠে
আমার রক্তের গোপন বাগানে;
কেশরের গন্ধে ভরে যায় নিশ্বাস,
দূর সমরখন্দ থেকে ভেসে আসে
বাঁশির মতো সরু কোনো মিনারের আজান।

আমাদের আলিঙ্গনে
দুটি দেহ কি কেবল দুটি দেহ?

নাকি তারা দুই তীর—
যাদের মাঝখানে যমুনার বদলে
বয়ে যায় আদিম কোনো নীল শূন্যতা,
যেখানে প্রেমিক তার নাম হারিয়ে
প্রেমেরই নাম হয়ে ওঠে?

রুমি বলেছিলেন—
প্রেমের আগুনে নিজেকে হারানোর কথা;
আমি তাঁর আগুনের কাছে বসে
তোমার ত্বকের উষ্ণতা পড়ি।

শামসের সূর্য কি এমনই ছিল—
যার আলোয় কবির পরিচিত পৃথিবী
এক মুহূর্তে অপরিচিত হয়ে যায়?

তোমার চোখের অতল কূপে
আমি যখন ঝুঁকে পড়ি,
আমার মুখ আর আমার থাকে না;
তোমার দৃষ্টির জলে ভেঙে যায়
আমার অহংকারের মসজিদ,
ভিতরে জেগে ওঠে
এক নামহীন প্রার্থনা।

এ কি কামনা,
না কি কামনারই গোপন সিঁড়ি বেয়ে
অদৃশ্যের দিকে ওঠা?

এ কি তোমার দেহের আকর্ষণ,
না কি সেই সৌন্দর্যের আহ্বান
যে সৌন্দর্য একদিন নক্ষত্র জ্বালিয়ে
অন্ধকারের প্রথম নিঃশ্বাসে বলেছিল—
হও?

আমি উত্তর খুঁজি না।

দর্শনের শেষ সীমানায়
যখন যুক্তির প্রদীপ কেঁপে ওঠে,
তখন তোমার শ্বাস
আমার কাছে হয়ে ওঠে
একটি জীবন্ত তত্ত্ব।

তোমাকে ভালোবাসা মানে
তোমাকে ঈশ্বর বলে পূজা করা নয়—
বরং তোমার স্বতন্ত্র শরীর,
তোমার ইচ্ছা, তোমার বিস্ময়,
তোমার না-বলার অধিকারসহ
তোমাকে সম্পূর্ণ মানুষ হিসেবে গ্রহণ করা।

কারণ প্রেমের মেহরাবে
জবরদস্তির কোনো কিবলা নেই;
দুটি হৃদয় সেখানে নত হয়
কেবল নিজের সম্মতিতে।

রাত আরও গভীর হয়।

ইসফাহানের বাগানে
ঝরে পড়ে সাইপ্রেসের ছায়া,
গোলাপের পাপড়িতে জমে থাকে শিশির,
আর দূরের কোনো কাফেলায়
উটের ঘণ্টা বাজে—
যেন সময় নিজেই মরুভূমি পেরিয়ে
আমাদের কাছে আসছে।

আমরা পাশাপাশি শুয়ে থাকি,
নগ্ন দেহে চাঁদের শীতল আশীর্বাদ;
তোমার আঙুলে আমার আঙুল,
আমার বুকে তোমার নিঃশ্বাস—
কোনো তাড়াহুড়ো নেই,
কোনো স্বর্গের প্রতিশ্রুতি নেই,
শুধু এই মুহূর্তের গভীর,
অলংকারহীন সত্য।

হয়তো এটাই ফানা—
নিজেকে মুছে ফেলা নয়,
নিজের ক্ষুদ্র সিংহাসন থেকে নেমে
অন্যের উপস্থিতির জন্য জায়গা করে দেওয়া।

হয়তো বাক্বা—
আবার ফিরে আসা,
দুটি পৃথক সত্তা হয়ে,
তবু ভালোবাসার আলোয়
আরও সত্য, আরও পূর্ণ।

ভোরের আগে
তোমার কপালে একটি চুম্বন রেখে
আমি দেখি—
জানালার ওপারে আকাশের নীল
ধীরে ধীরে সাদা হয়ে আসছে।

আমাদের শরীর পৃথক,
আমাদের আত্মার রহস্য পৃথক,
তবু এই ক্ষণিক মিলনের মধ্যে
সমস্ত বিচ্ছেদের বিরুদ্ধে
একটি ক্ষুদ্র গোলাপ ফুটেছে।

আমি তার নাম দিই না।

কারণ যে প্রেমের নাম একবার
শুধু ঈশ্বর, শুধু কামনা, শুধু দেহ
বলে স্থির করে দেওয়া হয়—
সে প্রেমের আকাশ সংকীর্ণ হয়ে আসে।

আমি শুধু তোমার হাত ধরি।

আর অনুভব করি—
এই স্পর্শে পৃথিবী তার মাটি ফিরে পায়,
মরুভূমি ফিরে পায় বৃষ্টি,
গোলাপ ফিরে পায় সুবাস,
আর মানুষ—

তার নগ্ন, নশ্বর, বিস্ময়কর মানুষত্ব।

প্রেমের শেষ দরজায় কোনো পর্দা নেই, প্রিয়তমা—
আছে শুধু দুটি হৃদয়ের উন্মুক্ত আকাশ,
যেখানে দেহের প্রদীপ জ্বলে
আর অনন্ত নীরবে তার আলো পড়ে।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ