বর্ণবৈষম্য অবসানের প্রতিশ্রুতি পূরণেএখনো অনেক দূরে বিশ্ব: জাতিসংঘে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
নিউজ২৪ইউএস.কম, নিউইয়র্ক : বর্ণবৈষম্য অবসানে ২৫ বছর আগে বিশ্ব যে অঙ্গীকার করেছিল, তার পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো হয়নি। বরং সেই প্রতিশ্রুতি বাস্তবায়ন থেকে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় এখনো অনেক দূরে রয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন খান। একই সঙ্গে ঐতিহাসিক অবিচার থেকে সৃষ্ট কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলায় ন্যায়বিচার, শিক্ষা, উন্নয়ন ও আন্তর্জাতিক সহযোগিতা জোরদারের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি।
সোমবার (২৮ সেপ্টেম্বর) নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সদর দপ্তরে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার (DDPA) ২৫তম বার্ষিকী উপলক্ষে আয়োজিত উচ্চপর্যায়ের অনুষ্ঠানে বক্তব্যে রাষ্ট্রদূত আইরিন খান এসব কথা বলেন।
বক্তব্যে তিনি বলেন, ২৫ বছর আগে ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনায় জাতি, বর্ণ, বংশপরিচয় এবং জাতীয় বা জাতিগত পরিচয়ের ভিত্তিতে বৈষম্য বন্ধে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় সুস্পষ্ট অঙ্গীকার করেছিল। কিন্তু সেই অঙ্গীকারের পূর্ণ বাস্তবায়ন এখনো অধরা। এ অবস্থায় ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার পূর্ণাঙ্গ ও কার্যকর বাস্তবায়নে বাংলাদেশের দৃঢ় অঙ্গীকার পুনর্ব্যক্ত করেন তিনি।
রাষ্ট্রদূত খান বলেন, বর্ণবৈষম্যের শিকড় শুধু বর্তমান বৈষম্যমূলক আচরণে সীমাবদ্ধ নয়; দাসপ্রথা, ঔপনিবেশিকতা ও অন্যান্য ঐতিহাসিক অবিচারের দীর্ঘমেয়াদি প্রভাবও এর সঙ্গে যুক্ত। এসব কাঠামোগত বৈষম্য মোকাবিলায় ন্যায়বিচার প্রতিষ্ঠা, শিক্ষা ও উন্নয়নের সুযোগ সম্প্রসারণ এবং আন্তর্জাতিক সহযোগিতা আরও শক্তিশালী করার প্রয়োজন রয়েছে।
তিনি বিশেষভাবে বৈষম্যের ঝুঁকিতে থাকা জনগোষ্ঠীর অধিকার সুরক্ষার ওপর গুরুত্ব দেন। অভিবাসী, শরণার্থী, জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত মানুষ, সংখ্যালঘু, নারী, শিশু এবং অন্যান্য ঝুঁকিপূর্ণ জনগোষ্ঠীর প্রতি বৈষম্য রোধে কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানান তিনি।
রাষ্ট্রদূত আইরিন খান বলেন, বৈষম্য মোকাবিলায় শুধু আন্তর্জাতিক ঘোষণা ও রাজনৈতিক অঙ্গীকার যথেষ্ট নয়; এসব অঙ্গীকার বাস্তবে কার্যকর করতে প্রয়োজন সুস্পষ্ট নীতি, জবাবদিহি এবং সমন্বিত উদ্যোগ। মানবাধিকার ও মর্যাদা রক্ষার ক্ষেত্রে কাউকে পিছিয়ে না রাখার নীতিকে বাস্তব পদক্ষেপে রূপ দেওয়ার ওপর গুরুত্ব দেন তিনি।
বক্তব্যে কৃত্রিম বুদ্ধিমত্তার দ্রুত বিকাশের বিষয়টিও তুলে ধরেন বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি। তিনি বলেন, নতুন প্রযুক্তিকে ঘৃণা, বিদ্বেষ ও সহিংসতা উসকে দেওয়ার হাতিয়ার হিসেবে ব্যবহার না করে টেকসই উন্নয়ন ও মানবকল্যাণে কাজে লাগাতে হবে। একই সঙ্গে এআইয়ের বিকাশ ও ব্যবহারের ক্ষেত্রে মানবাধিকার, সমতা ও বৈষম্যহীনতার সুরক্ষা নিশ্চিত করতে হবে।
রাষ্ট্রদূত খান বলেন, “বাংলাদেশ এমন একটি বিশ্ব গড়ে তুলতে প্রতিশ্রুতিবদ্ধ, যেখানে অনলাইন ও অফলাইন—উভয় ক্ষেত্রেই সব মানুষের বৈচিত্র্য ও মর্যাদা সমুন্নত থাকবে।”
তিনি বলেন, বর্ণবৈষম্য ও বৈষম্যের বিরুদ্ধে লড়াই বৈশ্বিক মানবাধিকার এজেন্ডার গুরুত্বপূর্ণ অংশ। ডারবান ঘোষণা ও কর্মপরিকল্পনার লক্ষ্য অর্জনে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত রাজনৈতিক সদিচ্ছা, কার্যকর পদক্ষেপ এবং দীর্ঘমেয়াদি সহযোগিতা প্রয়োজন।
- বর্ণবৈষম্য অবসানের প্রতিশ্রুতি পূরণেএখনো অনেক দূরে বিশ্ব: জাতিসংঘে বাংলাদেশ রাষ্ট্রদূত আইরিন খান
- নিউইয়র্কে জবস এনওয়াইসি সেন্টার চালু: সরকারি চাকরির আবেদন থেকে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা—এক ঠিকানায় সহায়তা
- নিউইয়র্কের জ্যামাইকায় বাংলাদেশ সোসাইটি ইনক’র বাংলা স্কুল উদ্বোধন।
- জাতিসংঘে ইউএনজিএ ৮১তম অধিবেশনের সভাপতি ড. খলিলের দপ্তরে লিগ্যাল অফিসার বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রীর মেয়ে জাইমা
- নিউইয়র্কের ব্রুকলীনে কুনু-ফিরোজ প্যানেলের নির্বাচনী সভা: ভবিষ্যতে কমিউনিটির সঙ্গে আলোচনা করেই গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে
- নিউইয়র্কে প্রাক্তন চুয়েট অধ্যাপক সুদীপ্ত দেবের পিতা অধ্যক্ষ সুশান্ত দেবের পরলোক গমন
- প্রধানমন্ত্রী তারেকের সাক্ষাৎ ঘিরে ক্ষোভ, গ্র্যান্ড হায়াতে প্রতিমন্ত্রী শামা ওবায়েদকে ঘিরে হট্টগোল
- FORMER POSTAL WORKER CHARGED WITH CASHING STOLEN U.S. TREASURY CHECKS

