নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে ১ জুলাই থেকে মরদেহ সমাহিত করা যাবে
নিউজ২৪ইউএসএ.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : নিউইয়র্কে বৃহত্তর নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ’র বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে ১ জুলাই থেকে মরদেহ সমাহিত করা যাবে। ইতোমধ্যে কবরের প্রথম কিস্তিতে বিক্রি করা দেয়া ২০ হাজার কবর তৈরি করা হয়েছে। এই কবরগুলোতে কবরের মালিক বা তাদের পরিবারের কেউ মারা গেলে তাদেরকে সমাহিত করা সম্ভব হবে। যাদের নিজের কেনা কবর রয়েছে তাদেরকে সমাহিত করার জন্য ও কবর বাদে অন্যান্য সব আনুষ্ঠিানকিতা করার জন্য জনপ্রতি খরচ হবে ২৫০০ ডলার। আর যাদের কবর কেনা নেই এমন কারো জন্য কবর দেয়ার প্রয়োজন হলে সেখানে ২৫০০ ডলারের সাথে খরচ হবে কবরের জন্য আরো এক হাজার ডলার। মোট সাড়ে তিন হাজার ডলার খরচ হবে। এই কথা জানান হয় ১১ জুন জ্যকসন হাইটসে মুনলাইট রেস্টুরেন্ট অনুষ্ঠিত বৃহত্তর নোয়াখালি সোসাইটির সংবাদ সম্মেলনে। সংবাদ সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন নোয়াখালী সমিতির প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি রফিকুল ইসলাম মিয়া। স্বাগত বক্তব্য রাখেন সমিতির সাধারন সম্পদক এ এস এম মাঈনুদ্দীন পিন্টু। মূল বক্তব্য ও লিখিত বক্তব্য রাখেন সভাপতি জাহিদ মিন্টু। বাংলাদেশ সোসাইটির সাবেক সভাপতি, নোয়াখালী সমিতির সাবেক সভাপতি ও বাংলাদেশ সেমিট্রি প্রকল্পের অন্যতম উদ্যোক্তা আব্দুর রব মিয়াসহ এই প্রকল্প বাস্তবায়নের সাথে সম্পৃক্ত বিভিন্ন নেতারা উপস্থিত ছিলেন। অনুষ্ঠানে অংশ নেওয়ার জন্য নিউইয়র্কের বিভিন্ন গণমাধ্যমের সাংবাদিকদের প্রতি আয়োজকদের পক্ষ থেকে ধন্যবাদ জানানো হয়।
সংবাদ সম্মেলনে জানান হয়, বৃহত্তর নোয়াখালি সোসাইটির উদ্যোগে বাংলাদেশ সেমিট্রির কাজ দ্রুত এগিয়ে চলেছে। ইতোমধ্যে এই প্রকল্প হাতে নেয়ার পর ২০ হাজার মানুষের কাছে বিভিন্ন সংগঠনের ব্যানারে কবর বিক্রি করা হয়েছে। সেই কবর হস্তান্তর করা হবে ২০ জুন থেকে। এই জন্য একটি সেমিট্রিতে একটি অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়েছে। যারা তাদের নিজেদের কবর দেখতে চান এবং যারা আগামীতে দ্বিতীয় কিংবা তৃতীয় কিস্তিতে কবর কিনতে চান তারা কিনতে পারবেন।
সংবাদ সম্মেলনে গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির সভাপতি জাহিদ মিন্টু বলেন, আপনারা জানেন প্রবাসের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটির উদ্যোগে বাংলাদেশ সেমিট্রি করার লক্ষ্যে নিউইয়র্কের আপ স্টেটে প্রায় এক শত ২৬ একর জমি ক্রয় করা হয়। বৃহত্তর নোয়াখালিবাসীর আন্তরিক ও ঐকান্তিত সহযোগিতায় ২০২৪ সালের ১৬ ডিসেম্বর আমরা পুরো নগদ অর্থে বাংলাদেশ সেমিট্রির জন্য জায়গা ক্রয় করি। বাংলাদেশ সেমিট্রিতে প্রায় ১ লাখের অধিক কবর তৈরি করা হবে পর্যায়ক্রমে। প্রবাসে বাঙালিদের সর্ববৃহৎ সেমিট্রির কাজ আমরা গত ৩১ জুলাই ২০২৫ সালে শুরু করি। আপনারা জানেন এই বিশাল কর্মযজ্ঞ সম্পন্ন করতে গিয়ে আমাদের নানা প্রতিবন্ধকতার সম্মুখীন হতে হয়েছিলো। সেই সাথে ছিলো ক্ষুদ্র একটি অংশের অপ-প্রচার। আল্লাহর অশেষ রহমতে এবং আপনাদের সকলের দোয়ায় আমরা সকল বাধা অতিক্রম করেছি।
তিনি বলেন, আমাদের সামনে এলো সেই ঐতিহাসিক ক্ষণ। আগামী ১ জুলাই ২০২৬ সাল থেকে আমরা করব দেয়া শুরু করতে যাচ্ছি। সে জন্যই আজকের সংবাদ সম্মেলন। আপনাদের সাথে নিয়েই এই প্রজেক্ট শুরু করেছিলাম, তাই খুশির খবরটি আপনাদের সাথে শেয়ার করছি। ১ জুলাই কবর দেয়ার কাজ শুরু করার আগে যারা বা যেসব প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে কবর ক্রয় করেছেন তাদের নিয়ে আরেকটি অনুষ্ঠান স্কটটাউন বাংলাদেশ সেমিট্রিতে আগামী ২০ জুন ২০২৬-এ অনুষ্ঠিত হবে। অনুষ্ঠানটি দুপুর ১২টায় শুরু হবে। যারা বা যে সব প্রতিষ্ঠান আমাদের কাছ থেকে কবর ক্রয় করেছেন, বুকিং মানি দেয়ার পর আর কোন অর্থ দেননি, যোগাযোগ রাখছেন না, তাদের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আপনাদের বাকি অর্থ অবশ্যই পরিশোধ করতে হবে। তা না হলে চুক্তি অনুযায়ী আপনাদের কবরের জায়গা বুঝিয়ে দেয়া সম্ভব হবে না। অর্থ পরিশোধ না করার কারণে আমরা মার্কিং এর কাজও শুরু করতে পারছি না। আশা করি এ ব্যাপারে আপনারা এগিয়ে আসবেন।
জাহিদ মিন্টু আরো বলেন, আমরা কবর দেয়ার কাজ শুরু করলেও আপাতত ফিউনারেলের কাজ আমরা করছি না। তবে কেউ সহযোগিতা চাইলে আমরা সবধরনের সহযোগিতা করবো। আমরা ফিউনারেল হোমের ব্যাপারে কাজ শুরু করেছি। আশা করি আগামীতে সেই ঘোষণাও আসবে। আপনারা জানেন, প্রথম কিস্তিতে আমরা ২০ হাজার কবর বিক্রির প্রকল্প গ্রহণ করেছিলাম। ১১ জুন পর্যন্ত আমাদের প্রথম কিস্তির ২০ হাজার কবর বিক্রি সম্পন্ন হয়েছে। আপনাদের অবগতির জন্য জানাচ্ছি যে, প্রতিটি কবর দেয়ার জন্য খরচ পড়বে ২৫০০ ডলার। শিশুদের জন্য ১২০০ ডলার (ইনফেন্ট)। যাদের কবর নেই তাদের ক্ষেত্রে খরচ পড়বে ২৫০০+১০০০= ৩৫০০ ডলার। হেড স্টোনের খরচ পড়বে ১২৫০ ডলার। সব হেড স্টোন একই ধরনের হবে। স্কটটাউন বাংলাদেশ সেমেট্রির ঐখানে জানাজা পড়ার ব্যবস্থা থাকবে অস্থায়ী ভবনে। থাকবে পানির ব্যবস্থা ও ওজু করার ব্যবস্থাও। স্থায়ী ভবনের কাজ অচিরেই শুরু হবে। কবর খোড়া, লাশ নামানোসহ সমস্ত কাজ মেশিনের মাধ্যমে করা হবে। ইতিমধ্যেই সকল যন্ত্রপাতি ও মেশিন ক্রয় করা হয়েছে। মানুষও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। আপাতত সোমবার থেকে শনিবার পর্যন্ত সকাল ৯টা থেকে বিকেল ৫টা পর্যন্ত লাশ দাফন করা যাবে। রোববার লাশ দাফন করা আলোচনা সাপেক্ষে।
আগামী জুলাই- আগস্ট থেকে দ্বিতীয় কিস্তির কবরের কাজ শুরু। দ্বিতীয় কিস্তিতে কবরের সংখ্যা হবে প্রায় ৪২ হাজার। বৃহত্তর নোয়াখালি সোসাইটির কর্মকর্তা, ট্রাস্টি এবং উপদেষ্টারদের সাথে আলাপ আলোচনার মাধ্যমে দ্বিতীয় কিস্তির কবরের মূল্য নির্ধারণ করা হবে।
জাহিদ মিন্টু বলেন, এই কাজে যারা আমাদের সহযোগিতা করেছেন, অর্থ দিয়েছেন তাদের প্রতি আমাদের আফুরান কৃতজ্ঞতা। সেই সাথে ধন্যবাদ জানাচ্ছি বৃহত্তর নোয়াখালি সোসাইটির উপদেষ্টা পরিষদ, ট্রাস্টি বোর্ড এবং কার্যকরি পরিষদের সদস্যদের। সেই সাথে বৃহত্তর নোয়াখালিবাসীসহ প্রবাসী বাংলাদেশী কম্যুনিটিকে।
- নিউইয়র্কে চিটাগাং অ্যাসোসিয়েশন অফ আমেরিকা’র সংবাদ সম্মেলন: চট্টগ্রামবাসীর হকের অর্থ, লাশ দাফনের অর্থ যারা মেরে দিয়েছেন, তাদের রেহাই দেওয়া হবে না
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সেমিট্রির কবরে ১ জুলাই থেকে মরদেহ সমাহিত করা যাবে
- যুক্তরাষ্ট্র প্রশাসনের কাছে ফ্যাসিস্ট সরকারের নিপীড়ন ও মানবতাবিরোধী অপরাধের চিত্র তুলে ধরেছিল প্রবাসী বাংলাদেশীরা – ড. তিতুমীর
- যুক্তরাষ্ট্রের বিনিয়োগকারীদের জন্যে এখন সবচেয়ে কার্যকর ও উপযোগী দেশ বাংলাদেশ : ড. তিতুমীর
- নিউইয়র্কে ডা. ডোনার ও ডা. হারুন কে বাংলাদেশী ডক্টর ফোরাম অব নর্থ আমেরিকা’র সংবর্ধনা
- নিউ জার্সির আটলান্টিক সিটিতে মেয়র মার্টি স্মল সিনিয়র স্কলারশিপ প্রোগ্রাম, আবেদনপত্র জমা দেওয়ার শেষ সময় ১৫ জুন
- নিউইয়র্কে মুনার ঈদ পুনর্মিলনী ও দায়িত্বশীল সমাবেশ
- নিউইয়র্কে সিএমবিএ’র ১৬তম ব্রুকলিন স্ট্রিট ফেয়ার

