জাতিসংঘে বাংলাদেশের আহ্বান—ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অপরাধীদের বিচার ও আশ্রয়দাতা দেশগুলোর দায়িত্ব ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে হবে
নিউজ২৪ইউএসএ.কম, নিউইয়র্ক : মানবতাবিরোধী অপরাধ প্রতিরোধ, অপরাধীদের বিচারের আওতায় আনা এবং ভুক্তভোগীদের অধিকার ও নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে একটি শক্তিশালী, কার্যকর ও সর্বজনীন আন্তর্জাতিক সনদ প্রণয়নের আহ্বান জানিয়েছেন বাংলাদেশের সংসদ সদস্য মুহাম্মদ নওশাদ জমির এমপি। এ ধরনের অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বিশেষ পরিস্থিতি বিবেচনায় নেওয়া, আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা বাড়ানো এবং অপরাধীদের দায়মুক্তির সুযোগ বন্ধ করার ওপরও গুরুত্ব দিয়েছেন তিনি।
গত ১৩ অক্টোবর মঙ্গলবার নিউইয়র্কে জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের ষষ্ঠ কমিটির বৈঠকে বাংলাদেশের পক্ষে বক্তব্য দিতে গিয়ে তিনি এসব আহ্বান জানান। মানবতাবিরোধী অপরাধ মোকাবিলায় আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের সম্মিলিত উদ্যোগ এবং ভুক্তভোগীকেন্দ্রিক আইনি কাঠামো গড়ে তোলার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন তিনি।
নওশাদ জমির বলেন, প্রস্তাবিত আন্তর্জাতিক সনদে মানবতাবিরোধী অপরাধের শিকার ব্যক্তিদের আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর বাস্তবতা ও বিশেষ পরিস্থিতির যথাযথ প্রতিফলন থাকা প্রয়োজন। এ লক্ষ্যে তিনি তিনটি সুনির্দিষ্ট ব্যবস্থার ওপর গুরুত্বারোপ করেন। প্রথমত, অপরাধের আলামত সংরক্ষণ এবং সাক্ষীদের সুরক্ষায় আন্তর্জাতিক সহযোগিতা নিশ্চিত করা। দ্বিতীয়ত, ভুক্তভোগীদের জাতীয় ও আন্তর্জাতিক পর্যায়ে ন্যায়বিচার পাওয়ার সুযোগ তৈরি করা। তৃতীয়ত, আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ওপর দায়িত্বের ভার কমাতে আন্তর্জাতিক সংহতি ও দায়িত্ব ভাগাভাগির ব্যবস্থা জোরদার করা।
বাংলাদেশে আশ্রয় নেওয়া মিয়ানমারের ১০ লাখের বেশি জোরপূর্বক বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গার প্রসঙ্গ তুলে ধরে তিনি বলেন, মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচারসংক্রান্ত আন্তর্জাতিক কাঠামোতে আশ্রয়দানকারী দেশগুলোর ভূমিকা ও অবদানের যথাযথ স্বীকৃতি থাকতে হবে। বাস্তুচ্যুত মানুষের আশ্রয়, সুরক্ষা ও ন্যায়বিচার নিশ্চিত করার ক্ষেত্রে এসব দেশের ওপর যে অতিরিক্ত দায়িত্ব বর্তায়, আন্তর্জাতিক ব্যবস্থায় তার প্রতিফলন জরুরি।
বাংলাদেশের ২০২৪ সালের জুলাই-আগস্টের গণ-অভ্যুত্থানের প্রসঙ্গও তুলে ধরেন নওশাদ জমির। তিনি বলেন, জাতিসংঘের মানবাধিকারবিষয়ক হাইকমিশনারের দপ্তরের তথ্যানুসন্ধান প্রতিবেদনে ওই সময়ে শিশুসহ প্রায় ১ হাজার ৪০০ মানুষের প্রাণহানির তথ্য উঠে এসেছে। প্রতিবেদনে ওই সময় সংঘটিত মানবাধিকার লঙ্ঘনের ঘটনাগুলো মানবতাবিরোধী অপরাধ হিসেবে বিবেচিত হতে পারে কি না, তা নির্ধারণে ফৌজদারি তদন্তের ওপর গুরুত্ব দেওয়া হয়েছে।
মানবতাবিরোধী অপরাধে জড়িত ব্যক্তিরা যেন কোনো দেশে নিরাপদ আশ্রয় না পান, তা নিশ্চিত করার আহ্বান জানিয়ে তিনি সর্বজনীন বিচারিক এখতিয়ার প্রতিষ্ঠা, অপরাধীদের প্রত্যর্পণ এবং রাষ্ট্রগুলোর মধ্যে আন্তর্জাতিক আইনি সহযোগিতা জোরদারের ওপর গুরুত্ব দেন। একই সঙ্গে নারী ও শিশুদের ন্যায়বিচার ও ক্ষতিপূরণ নিশ্চিত করা এবং আন্তর্জাতিক অপরাধ আদালতের স্বাধীনতা সমুন্নত রাখার প্রয়োজনীয়তা তুলে ধরেন।
প্রস্তাবিত সনদ প্রণয়নে অতিরিক্ত আপসের বিষয়ে সতর্ক করে নওশাদ জমির বলেন, ‘সবাইকে সন্তুষ্ট করতে গিয়ে সনদকে দুর্বল করা হলে তা শেষ পর্যন্ত কাউকেই সুরক্ষা দিতে পারবে না।’
তাঁর বক্তব্যে মানবতাবিরোধী অপরাধের বিচার নিশ্চিত করা, ভুক্তভোগীদের অধিকার রক্ষা এবং আন্তর্জাতিক সম্প্রদায়ের মধ্যে কার্যকর সহযোগিতা প্রতিষ্ঠার ওপর বাংলাদেশের অবস্থান গুরুত্ব পায়।
- New York Attorney General James Warns New Yorkers About AI-Generated Election Misinformation Ahead of November Elections
- Bangladesh calls for global treaty to protect victims of crimes against humanity
- জাতিসংঘে বাংলাদেশের আহ্বান—ভুক্তভোগীদের সুরক্ষা, অপরাধীদের বিচার ও আশ্রয়দাতা দেশগুলোর দায়িত্ব ভাগাভাগি নিশ্চিত করতে হবে
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচনে প্রথমবারের মতো বিতর্ক; ভোটার পদ্ধতির সংস্কার, আর্থিক ব্যবস্থাপনা ও জনকল্যাণমূলক কার্যক্রম নিয়ে আলোচনা
- ভার্জিনিয়ায় বাংলাদেশি কমিউনিটি নেতৃবৃন্দ অসুস্থ মুক্তিযোদ্ধা সাংবাদিক হারুন চৌধুরীকে দেখতে গেলেন
- সোশ্যাল মিডিয়ার তথ্য গোপন করলে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা প্রত্যাখ্যানের ঝুঁকি, আবেদনপত্রে চাওয়া তথ্য সঠিক ও সম্পূর্ণভাবে দেওয়ার নির্দেশনা দূতাবাসের
- New York Attorney General James Issues Voter Guidance to Inform New Yorkers of Their Rights Ahead of November Election
- নিউইয়র্কে সাউথ এশিয়ান-আমেরিকান রিয়েলটর অ্যাসোসিয়েশনের বর্ণিল অভিষেক, মনোজ্ঞ সংগীত পরিবেশনা

