যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপিত
নিউজ২৪ইউএসএ.কম, নিউইয়র্ক : যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্ক স্টেট সিনেট হাউসে ২৩ মার্চ সোমবার ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপিত হয়েছে। ১০ম বারের মতো নিউইয়র্ক স্টেটের রাজধানী আলবেনীতে নানা আয়োজনে বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতা দিবস উদযাপিত হয় ‘বাংলাদেশ ডে’ হিসেবে। এদিন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে বাংলাদেশের স্বাধীনতা দিবসের ওপর রেজুলেশন গ্রহণ করা হয়। তুলে ধরা হয় বাংলাদেশের মহান স্বাধীনতার সংক্ষিপ্ত ইতিহাস। খবর ইউএসএনিউজঅনলাইন.কম’র।

দিবসটি উদযাপনের জন্যে সোমবার সকাল সাড়ে ৮টায় ব্রঙ্কসের বাংলাবাজার এলাকার ইউনিয়নপোর্ট রোড থেকে নিউইয়র্কের রাজধানী আলবেনীর উদ্দেশ্যে একটি বাস ও দু’টি প্রাইভেট কার ছেড়ে যায়। বাংলাদেশী কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ আলবানিতে পৌঁছান বেলা প্রায় ১১টায়। এসময় সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজকে সাথে নিয়ে অর্ধশতাধিক বাংলাদেশী ‘বাংলাদেশ ডে’ ব্যানার সহকারে আলবানি সিনেট ভবন এলাকায় সংক্ষিপ্ত শোভাযাত্রায় অংশ নেন। সিনেট ভবনের লবির বাইরে বাংলাদেশ ডে উদযাপনে অংশগ্রহণকারীদের নিয়ে ফটোসেশন অনুষ্ঠিত হয়। ফটোসেশনে ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত দুই স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা ও ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইসও অংশ নেন। ফটোসেশন শেষে মধ্যাহ্ন ভোজ পরিবেশন করা হয়।
মধ্যাহ্ন ভোজ শেষে আলবানি সিনেট ভবনের ফ্লোরে বাংলাদেশী কমিউনিটির সম্মানে এক সংক্ষিপ্ত অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়। অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ, সিনেটর জন ল্যু, অ্যাসেম্বলিওম্যান ক্যারীনেস রেইস প্রমুখ।
এসময় বিভিন্ন জনকে সম্মাননা প্রদান ও মনোজ্ঞ সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান পরিবেশিত হবে। জাতীয় সঙ্গীতসহ সাংস্কৃতিক পরিবেশনায় অংশ নেন বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস-বাফা’র শিল্পীরা। পরিচালনায় ছিলেন বাফা’র প্রেসিডেন্ট ফরিদা ইয়াসমিন।
সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান শেষে ইভেন্ট কমিটির আহ্বায়ক মো. শামিম মিয়ার সঞ্চালনায় অন্যদের মধ্যে আরো বক্তব্য দেন ও উপস্থিত ছিলেন উদযাপন কমিটির প্রধান উপদেষ্টা আবদুস শহীদ, চেয়ারম্যান জুনেদ আহমেদ চৌধুরী, কো-চেয়ারম্যান রোকন হাকীম ও সামাদ মিয়া জাকারিয়া, যুগ্ম আহ্বায়ক শামিম আহমেদ, প্রধান সমন্বয়কারী আবদুর রহিম বাদশা, কমিটির মুখপাত্র ইমরান শাহ রন, সদস্য সচিব এ ইসলাম মামুন, যুগ্ম সদস্য সচিব রেজা আব্দুল্লাহ ও হুমায়ুন কবির সোহেল, উপদেষ্টা সাখাওয়াত আলী, বীর মুক্তিযোদ্ধা মঞ্জুর আহমেদ, বীর মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল হালিম মুন্সী, বীর মুক্তিযোদ্ধা বিজয় কুমার সাহা, এডভোকেট রেদওয়ানা রাজ্জাক, মাইনউদ্দিন নটু, সৈয়দ গৌছুল হোসেন, কৃষিবিদ মোহাম্মদ সোলায়মান, আবু তাহের চৌধুরী, বীর মুক্তিযোদ্ধা এমএ নাসির, বীর মুক্তিযোদ্ধা জাহাঙ্গীর আলম ও সরাফত আলী পাটোয়ারী মাস্টার, সমন্বয়কারী নুরুল ইসলাম মিলন ও মুনতাসিম বিল্লাহ তুষার, সদস্য জামাল আহমদ, সাদিকুর রহমান, সিদ্দিক মিশরী, মোয়াজ্জেম হোসেন প্রমুখ। এছাড়াও অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন বাংলাদেশ অ্যাথলেটিকস ফেডারেশনের সাবেক সাধারণ সম্পাদক ও সাবেক সহকারি অ্যাটর্নি জেনারেল অ্যাডভোকেট আবদুর রকিব মন্টু।
পরে বিকেল সাড়ে তিনটায় সিনেট অধিবেশনে ‘বাংলাদেশ ডে’ রেজুলেশন গৃহীত হয়। সিনেটর ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিবরণ তুলে ধরে ‘বাংলাদেশ ডে’ বিলটি হাউসে উত্থাপন করেন। বিলে ন্যাথালিয়া ফার্নান্ডেজ ১৯৭১ সালের মার্চে অপারেশন সার্চ লাইটের নামে গণহত্যা, মুক্তিযুদ্ধের নয় মাসে বাংলাদেশীদের আত্মত্যাগ এবং পাকিস্তানী বাহিনীর হাতে বাংলাদেশী মা-বোনদের সম্ভ্রমহানির কথা সবিস্তারে তুলে ধরেন।
এসময় ‘বাংলাদেশ ডে’র ওপর আলোচনায় অংশ নেন স্টেট সিনেটর লুইস সেপুলভেদা, সিনেটর জন ল্যু, সিনেটর জেসিকা রামোস, সিনেটর রবার্ট জ্যাকসনসহ বেশ ক’জন সিনেটর। স্টেট সিনেটরগণ তাদের বক্তব্যে যুক্তরাষ্ট্রের সার্বিক উন্নয়নে বাংলাদেশী কমিউনিটির অবদানের উচ্ছ্বসিত প্রসংশা করেন। বক্তব্যে সিনেটরগণ বাংলাদেশে প্রায় ১২ লাখ রোহিঙ্গার আশ্রয় দেয়ায় বিষয়টিকে মানবিকতার উজ্জ্বল দৃষ্টান্ত হিসেবে উল্লেখ করেন। আলোচনা শেষে রেজুলেশনটি সর্বসম্মতিক্রমে গৃহীত হয়।
বাংলাদেশ ডে রেজুলেশন গ্রহণকালে প্রবাসী বাংলাদেশীরা সিনেট কক্ষের গ্যালারীতে উপবিষ্ট ছিলেন। সিনেট গ্যালারি এদিন সংরক্ষিত ছিল বাংলাদেশীদের জন্য।
উদযাপন কমিটি নের্তৃবৃন্দ জানায়, বাংলাদেশ ডে বাংলাদেশ, বাংলাদেশী-আমেরিকানদের সম্মানার্থে স্টেটের পক্ষ থেকে এক বিশেষ আয়োজন। দলমত নির্বিশেষে প্রবাসীরা বাংলাদেশ ডে’র নানা কর্মসূচিতে অংশ নেন।
সহযোগিতায় ছিলেন আব্দুর রব দলা মিয়া, আহাদ আলী সিপিএ, রোকন হাকিম, ল’ অফিস অব এইচ ব্রুশ ফিসার, সাখাওয়াত আলী, ল’ অফিস অব কিম অ্যান্ড এসোসিয়েটস, ম্যাগ্র ফার্মেসী, ফ্রাইম এশিয়ান লঞ্জ, হাসান চাইনিজ এবং প্রগ্রেস রিয়েলটি। অনুষ্ঠানে যোগদানের জন্য জনপ্রতি ফি ধার্য ছিল ৫০ ডলার।
উল্লেখ্য, নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ঐতিহাসিক বাংলাদেশ ডে বিলটি পাশ হয় বিগত ২০১২ সালের ২৪ মার্চ। ব্রঙ্কস থেকে নির্বাচিত সাবেক সিনেটর রুবিন ডিয়াজের ধন্যবাদ প্রস্তাব বিলের মাধ্যমে বিলটি পাশ হয়। তাকে সে সময় রেজুলেশন তৈরি করে সহযোগীতা করেন প্রবাসী বাংলাদেশীদের কাছে ‘লুইস ভাই’ হিসেবে পরিচিত এটর্নী লুইস সিপুলভেদা (বর্তমান সিনেটর)। তাদের সহায়তা করেন ব্রঙ্কস বাংলাদেশী কমিউনিটির নের্তৃবৃন্দ।
জানা যায়, বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কস ও বাংলাদেশী কমিউনিটির যৌথ উদ্যোগে ২০১২ সালে বাংলাদেশের ৪১ তম স্বাধীনতা দিবস উদযাপন করা হয় ব্রঙ্কসের একটি রেষ্টুরেন্টে। প্রয়াত কমিউনিটি সংগঠক জাকির খানের আমন্ত্রণে রুবিন ডিয়াজ ও লুইস সিপুলভেদা ওই অনুষ্ঠানে অতিথি হিসেবে উপস্থিত থাকেন। বাংলাদেশী-আমেরিকান কমিউনিটি কাউন্সিলের সভাপতি মোহাম্মদ এন মজুমদারের সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত ওই সভায় বাংলাদেশ সোসাইটি অব ব্রঙ্কসের তৎকালীন সভাপতি মাহবুব আলমের প্রস্তাবনায় ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপন বিষয়ে সিদ্ধান্ত গৃহীত হয়। পরে ২০১২ সালের ২৪ মার্চ নিউইয়র্ক স্টেট সিনেটে ততকালীন সিনেটর রুবিন ডিয়াজ বাংলাদেশ ডে বিলটি উত্থাপন করেন। বিলের আলোকে সিনেটর রুবিন ডিয়াজ সিনেটে বাংলাদেশের স্বাধীনতার বিবরণ তুলে ধরেন। সেদিন মাত্র ২০ মিনিটের মধ্যেই এই ঐতিহাসিক বিলটি সর্বসম্মতভাবে সিনেটে পাশ হয়। সে থেকে প্রতি বছর ‘বাংলাদেশ ডে’ উদযাপিত হয়ে আসছে।
- TWO FAR ROCKAWAY DEFENDANTS SENTENCED FOR KILLING LONG ISLAND MAN IN 2022
- জুলাই গণঅভ্যুত্থান দিবস উপলক্ষে জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের স্মারক সংবর্ধনা
- যুক্তরাষ্ট্রের ২৫০তম স্বাধীনতা বার্ষিকী উপলক্ষে ইউএসবিসিসিআই’র মর্যাদাপূর্ণ অনুষ্ঠান
- Bangladesh Permanent Mission to the UN Commemorates July Mass Uprising Day
- সুনামগঞ্জ বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় নির্ধারিত স্থানে বাস্তবায়নের দাবিতে নিউইয়র্কে সুনামগঞ্জবাসীর সংবাদ সম্মেলন অনুষ্ঠিত
- নিউইয়র্কে যুক্তরাষ্ট্র ছাত্রলীগের দু’গ্রুপের সংর্ষের ঘটনায় ১ ছাত্রলীগ কর্মী গ্রেফতার
- নিউইয়র্ক সিটি বিংহ্যামটন কর্পোরেশন (এনবিসি)’র উৎসবমুখর বনভোজন এবং ‘হেল্প দ্য পিপল, সেভ দ্য লাইভ’র বর্ণাঢ্য উদ্বোধন
- যুক্তরাষ্ট্রে ষষ্ঠবারের মতো কুইন্স ডেমোক্রেটিক পার্টির ডিস্ট্রিক্ট লিডার নির্বাচিত মঈন চৌধুরী

