ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী বৃষ্টির মরদেহ শনাক্ত
নিউজ২৪ইউএসএ.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : ইউনিভার্সিটি অব সাউথ ফ্লোরিডার নিখোঁজ বাংলাদেশি পিএইচডি শিক্ষার্থী নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির মরদেহ ডিএনএ ও দাঁতের রেকর্ডের মাধ্যমে শনাক্ত করা হয়েছে । হিলসবোরো কাউন্টির শেরিফ চ্যাড ক্রোনিস্টার ৩ মে এক সংবাদ সম্মেলনে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। একই সংবাদ সম্মেলনে শেরিফ জানান, অভিযুক্ত হত্যাকারী হিশাম আবুগারবিয়াহকে সংগৃহীত সাক্ষ্যপ্রমাণের মুখোমুখি করা হলে সে সম্পূর্ণ “নির্লজ্জ” আচরণ করে এবং কোনো ধরনের আবেগ বা অনুশোচনা প্রকাশ করেনি।
তদন্তকারীরা জানান, স্থানীয় দুই কায়াকার (যারা নৌকায় করে মাছ ধরছিলেন) মাছ ধরার সময় পানিতে একটি ব্যাগে আটকে গেলে সন্দেহের সৃষ্টি হয়। কাছে গিয়ে তারা তীব্র দুর্গন্ধ পান এবং একটি প্লাস্টিক ব্যাগের ভেতরে মানবদেহ দেখতে পেয়ে পুলিশকে খবর দেন।
স্মরণ করা যায়, গত ২৪ এপ্রিল ট্যাম্পা বে-র হাওয়ার্ড ফ্রাংকল্যান্ড সেতুতে জামিল আহমেদ লিমনের মরদেহ উদ্ধার করা হয় এবং দুদিন পর, ২৬ এপ্রিল সেতুর দক্ষিণে একটি কালো ট্র্যাশ ব্যাগে আরেকটি মরদেহ পাওয়া যায়। এখন আনুষ্ঠানিকভাবে নিশ্চিত হলো সেটি নাহিদা বৃষ্টিরই মরদেহ। দুজনকেই ১৬ এপ্রিল শেষবার জীবিত দেখা গিয়েছিল।
এখন পর্যন্ত অভিযুক্ত হিশাম আবুগারবিয়াহ (২৬) আনুষ্ঠানিকভাবে কোনো স্বীকারোক্তি দেননি। তদন্তকারীরা জানিয়েছেন, গত ২৩ এপ্রিল মামলাটি নিখোঁজ তদন্ত থেকে “বিপদগ্রস্ত” হিসেবে আপগ্রেড করার সাথে সাথে সে তদন্তকারীদের সাথে কথা বলা বন্ধ করে দেয়। তদন্তের শুরুর দিকে সে পরস্পরবিরোধী বক্তব্য দিয়েছিল — একপর্যায়ে দাবি করেছিল সে লিমন ও বৃষ্টিকে ক্লিয়ারওয়াটারে নামিয়ে দিয়েছে, কিন্তু ডিজিটাল ও শারীরিক প্রমাণ সেই দাবিকে সম্পূর্ণ মিথ্যা প্রমাণ করে। আদালতের অনলাইন রেকর্ড অনুযায়ী, দুটি প্রথম ডিগ্রি পরিকল্পিত হত্যার অভিযোগের বিপরীতে সে এখনো আনুষ্ঠানিক কোনো আবেদন দাখিল করেনি।
সরাসরি স্বীকারোক্তি না থাকলেও তদন্তকারীরা আদালতে যে পরিমাণ পারিপার্শ্বিক ও ফিজিক্যাল প্রমাণ উপস্থাপন করেছেন তা অত্যন্ত শক্তিশালী। সার্ভেইল্যান্স ফুটেজ ও জিপিএস ডেটা অনুযায়ী, ১৭ এপ্রিল ভোররাতে হিশামের গাড়িটি হাওয়ার্ড ফ্রাংকল্যান্ড সেতুতে মোট ছয়বার যাতায়াত করেছিল — ঠিক যে সেতুতে পরে লিমনের মরদেহ পাওয়া যায়। ডিজিটাল প্রমাণের মধ্যে সবচেয়ে শিউরে ওঠার মতো তথ্য হলো, হিশামের ফোন থেকে চ্যাটজিপিটিতে “কীভাবে মরদেহ সরিয়ে ফেলতে হয়” এবং “মরদেহ কতটা গভীরে কবর দিতে হয়” — এই ধরনের ভয়াবহ সার্চ করা হয়েছিল। তার শোবার ঘরে বিপুল পরিমাণ রক্তের চিহ্ন পাওয়া যায় এবং নিকটবর্তী ডাস্টবিন ও তার ঘরে লিমন ও বৃষ্টির জাতীয় পরিচয়পত্র, ফোন কেস ও ব্যক্তিগত জিনিসপত্র উদ্ধার করা হয়। এছাড়া হত্যাকাণ্ডের আগে সে অ্যামাজন থেকে ডাক্ট টেপ, ট্র্যাশ ব্যাগ, লাইটার ফুয়েল ও ফায়ার স্টার্টার কিনেছিল এবং রাত সাড়ে দশটায় ডোরড্যাশ-এ ট্র্যাশ ব্যাগ, লাইসল ওয়াইপস ও ফেব্রিজ অর্ডার করেছিল — যা আধঘণ্টার মধ্যে তার অ্যাপার্টমেন্টে ডেলিভারি হয়।
আদালত ইতিমধ্যে হিশামকে বিচারের আগ পর্যন্ত জামিনবিহীন আটক রাখার আদেশ দিয়েছেন। বিচারক রায় দিয়েছেন যে তাকে মুক্তি দিলে সমাজের জন্য গুরুতর ঝুঁকি তৈরি হবে। বৃষ্টির মরদেহ আনুষ্ঠানিকভাবে শনাক্ত হওয়ার পর তার পরিবার ও বন্ধুমহলে নতুন করে শোকের ঢেউ বইছে।
নাহিদা সুলতানা বৃষ্টির ভাইকে ফ্লোরিডার পুলিশ ডিপার্টমেন্টের পক্ষ থেকে ফোন করে নিশ্চিত করা হয়েছে যে, উদ্ধারকৃত দ্বিতীয় মরদেহটি বৃষ্টির। বৃষ্টির পরিবারের পক্ষ থেকে মরদেহ বাংলাদেশে পাঠানোর উদ্যোগ নেওয়ার অনুরোধ করা হয়েছে। ওয়াশিংটন ডিসির বাংলাদেশ দূতাবাস, মিয়ামির বাংলাদেশ কনস্যুলেটের মাধ্যমে বৃষ্টির মরদেহ দেশে পাঠানোর প্রক্রিয়া শুরু করছে বলে ওয়াশিংটন্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের প্রেস মিনিস্টার গোলাম মোর্তোজা জানিয়েছেন।
- নিউইয়র্কের ব্রঙ্কসে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ৫১তম মৃত্যুবার্ষিকী উপলক্ষে আলোচনা, দোয়া মাহফিল ও তবারক বিতরণ
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি মালিকানাধীন ‘দ্য পোর্ট অব পেরি পেরি’ রেস্টুরেন্টের গ্র্যান্ড ওপেনিং
- Federal Court Strikes down Trump’s Visa Ban on 75 Countries
- নিউইয়র্কে বাংলাদেশি যুবক রাজুকে গুলি করে হত্যা
- বরেণ্য সম্পাদক অধ্যাপক আব্দুল ওহাব ছিলেন তৃণমূল সাংবাদিকতার পথিকৃৎ
- নিউইয়র্কের বাংলাদেশ সোসাইটির আসন্ন নির্বাচনে ‘সেলিম-আলী’ পরিষদকে গ্রেটার নোয়াখালী সোসাইটি ইউএসএ’র সমর্থন
- নিউইয়র্ক সিটি ডিপার্টমেন্ট অব বিল্ডিংস (DOB)-এর কমিশনারের সঙ্গে এএবিইএ নিউইয়র্ক চ্যাপ্টারের মতবিনিময়
- নিউজার্সির আটলান্টিক সিটিতে বাংলাদেশের সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার জন্মদিন উপলক্ষে দোয়া মাহফিল

