Tuesday, 8 September 2026 |
শিরোনাম
বাংলাদেশের পররাষ্ট্রমন্ত্রী খলিলুর রহমান জাতিসংঘ সাধারণ পরিষদের ৮১তম অধিবেশনের সভাপতির দায়িত্ব নিচ্ছেন বঙ্গবীর ওসমানীর ১০৮তম জন্মবার্ষিকীতে নিউইয়র্কে স্বদেশ ফোরামের ছড়া-কবিতা পাঠ ও আলোচনা নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন: সেলিম–আলী ও কুনু–ফিরোজ পরিষদ এবং স্বতন্ত্র প্রার্থীদের মনোনয়নপত্র দাখিল বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর: সংবর্ধনা সরকারি-কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনায়! আমেরিকার ৪১তম ফোবানা চার ভাগে: ঐক্যের স্লোগান থাকলেও কাটছে না বিভক্তি, আগামী বছর ওয়াশিংটন ডিসি, নিউইয়র্ক ও হিউস্টনে পৃথক সম্মেলন নিউইয়র্কে ‘ভবিষ্যতে কেমন বাংলাদেশ সোসাইটি দেখতে চাই’ শীর্ষক মতবিনিময় সভায় তরুণ নেতৃত্বের সুযোগ সৃষ্টির আহ্বান যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসীদের কনস্যুলার সেবা সহজ ও দ্রুত করতে নিউইয়র্কে বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কল সেন্টার চালু নিউইয়র্কে বাংলাদেশ ল’ সোসাইটি ইউএসএ ইনকের শরৎ উৎসব ও ফ্যামিলি নাইট অনুষ্ঠিত New York Attorney General James Warns New Yorkers About Student Loan Scams Justice, equality and human rights essential to building a lasting culture of peace: Irene Khan
সব ক্যাটাগরি

বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর: সংবর্ধনা সরকারি-কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনায়!

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 177 বার

প্রকাশিত: September 8, 2026 | 2:35 am

নিউজ২৪ইউএসএ.কম ডেস্ক, নিউইয়র্ক : বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী ও বিএনপির চেয়ারম্যান তারেক রহমানের সম্ভাব্য নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে উৎসাহের পাশাপাশি নতুন করে দানা বাঁধছে অসন্তোষ। দীর্ঘদিনের আন্দোলন-সংগ্রামে যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় কার্যক্রম চালানো নেতা-কর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ—প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনা থেকে শুরু করে তাঁর সঙ্গে সাক্ষাৎ, এমনকি অনুষ্ঠান পরিচালনাতেও দলীয় নেতৃত্বকে আড়ালে রাখার পরিকল্পনা করা হয়েছে।

তাদের প্রশ্ন, যে নেতা-কর্মীরা দীর্ঘ দেড় যুগেরও বেশি সময় ধরে রাজপথে ছিলেন, নিজেদের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করে দলের পক্ষে জনমত গঠনে কাজ করেছেন, তারাই যদি প্রধানমন্ত্রীর নিউইয়র্ক সফরে উপেক্ষিত হন—তাহলে সাংগঠনিক ত্যাগের মূল্যায়ন কোথায়?

অনুসন্ধানে সংশ্লিষ্ট একাধিক সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, সফরকে বিতর্কমুক্ত রাখা এবং কূটনৈতিক প্রটোকলকে সর্বোচ্চ গুরুত্ব দেওয়ার লক্ষ্যে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক কর্মসূচিকে ব্যাপকভাবে সরকারি-কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনার মধ্যে রাখার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে বলে অভিযোগ উঠেছে।

তবে এ বিষয়ে এখন পর্যন্ত সরকারের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ কিংবা বাংলাদেশ কনস্যুলেটের পক্ষ থেকে কোনো আনুষ্ঠানিক ব্যাখ্যা পাওয়া যায়নি।

সংশ্লিষ্ট সূত্রের দাবি, নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেটের কনসাল জেনারেল মোজাম্মেল হক সম্প্রতি বিএনপির কেন্দ্রীয় পর্যায়ের কয়েকজন নেতার সঙ্গে বৈঠক করেছেন। ওই বৈঠকে তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফরের বিভিন্ন কর্মসূচি নিয়ে আলোচনা হয় বলে জানা গেছে।

সূত্রগুলোর ভাষ্য অনুযায়ী, সফরকালে বিএনপির কোনো নেতা যেন প্রধানমন্ত্রীর সঙ্গে ব্যক্তিগত বা দলীয়ভাবে সাক্ষাৎ করতে না পারেন—এমন একটি নীতিগত অবস্থানের কথা জানানো হয়েছে। একই সঙ্গে নাগরিক সংবর্ধনা অনুষ্ঠানে দলীয় কোনো নেতাকে সভাপতি বা সঞ্চালকের দায়িত্ব না দেওয়ার বিষয়েও আলোচনা হয়েছে বলে সূত্রের দাবি।

এই তথ্য ছড়িয়ে পড়ার পর যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির বিভিন্ন পর্যায়ের নেতা-কর্মীদের মধ্যে তীব্র প্রতিক্রিয়া দেখা দিয়েছে।

তাদের একাংশের প্রশ্ন: “তারেক রহমান যদি শুধু প্রধানমন্ত্রী নন, বিএনপিরও শীর্ষ নেতা হন, তাহলে দলের নেতা-কর্মীদের সঙ্গে তাঁর সাক্ষাৎ বা সাংগঠনিক যোগাযোগ কেন সীমিত থাকবে?”

নাগরিক সংবর্ধনায় প্রায় ৭০০ অতিথি আমন্ত্রণ জানানোর একটি পরিকল্পনার কথা জানিয়েছে সংশ্লিষ্ট সূত্র।

প্রাথমিক পরিকল্পনা অনুযায়ী— নিউইয়র্ক থেকে প্রায় ৩০০ জন; অন্যান্য অঙ্গরাজ্য থেকে প্রায় ৩০০ জন; নাগরিক সমাজ ও বিভিন্ন রাজনৈতিক-সামাজিক মহল থেকে প্রায় ১০০ জন— আমন্ত্রিত হতে পারেন।

সূত্রের দাবি, এর বাইরে নির্বাচিত কিছু গণমাধ্যমকর্মীকেও অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানোর পরিকল্পনা রয়েছে।

কিন্তু প্রশ্ন উঠেছে, দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক কর্মকাণ্ডে সক্রিয় থাকা নেতাদের কতজন এই তালিকায় থাকবেন এবং কী প্রক্রিয়ায় অতিথি নির্বাচন করা হবে।

দলীয় নেতা-কর্মীদের একটি অংশের অভিযোগ, তৃণমূলের সাংগঠনিক ভূমিকার পরিবর্তে প্রশাসনিক ও ব্যক্তিগত পছন্দকে অগ্রাধিকার দেওয়া হলে এই সংবর্ধনা দলীয় নেতা-কর্মীদের মধ্যে বিভাজন আরও বাড়াতে পারে।

একাধিক সূত্রের দাবি, অনুষ্ঠানের জন্য প্রায় ২ লাখ ৫০ হাজার মার্কিন ডলার পর্যন্ত বাজেটের কথা বলা হয়েছে।

তবে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সঙ্গে সংশ্লিষ্ট কয়েকজন দায়িত্বশীল ব্যক্তি এই অঙ্ককে অস্বাভাবিক বলে মনে করছেন।

তাদের হিসাব অনুযায়ী, প্রায় ৭০০ আসনের একটি মিলনায়তন, সাউন্ড সিস্টেম, ডিজিটাল ব্যানার, সীমিত লাইটিং এবং অতিরিক্ত নিরাপত্তা—এসব মিলিয়ে ব্যয় প্রায় ৬০ হাজার ডলারের মধ্যে রাখা সম্ভব।

তাদের প্রশ্ন, অতিথিদের জন্য বড় ধরনের আপ্যায়নের ব্যবস্থা না থাকলে আড়াই লাখ ডলারের প্রয়োজন কেন?

এ বিষয়ে ঢাকায় অবস্থানরত বিএনপি নেতা গিয়াস আহমেদের সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও তাঁর বক্তব্য পাওয়া যায়নি।

তিনি যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিকে অনুষ্ঠান আয়োজনের দায়িত্ব দিলে রাষ্ট্রের বড় অঙ্কের অর্থ ব্যয় প্রয়োজন হবে না—এমন একটি প্রস্তাব দিয়েছেন বলে সূত্রের দাবি।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির একাধিক নেতা বলেন, বিএনপির রাজনৈতিক সংকটের সময় যুক্তরাষ্ট্রে দলীয় নেতা-কর্মীরা নিয়মিত কর্মসূচি পালন করেছেন। বিক্ষোভ, সভা, মানববন্ধন, লবিং এবং বিভিন্ন রাজনৈতিক কার্যক্রমে নিজেদের অর্থ ও শ্রম ব্যয় করেছেন তারা।

তাদের বক্তব্য, শেখ হাসিনা সরকারের সময় বিএনপির পক্ষে যুক্তরাষ্ট্রে রাজনৈতিক অবস্থান তৈরি করতে যারা কাজ করেছেন, তাদের অনেকেই পুলিশের হয়রানি, রাজনৈতিক চাপ এবং নানা প্রতিকূলতার মুখোমুখি হয়েছেন।

একজন দায়িত্বশীল নেতা বলেন, “আওয়ামী লীগের কর্মসূচির বিরুদ্ধে রাজপথে আমাদেরই থাকতে হয়। দলের জন্য অর্থও আমাদেরই ব্যয় করতে হয়। অথচ দলের শীর্ষ নেতা নিউইয়র্কে এলে তাঁর কাছাকাছি যাওয়ার সুযোগও যদি না থাকে, তাহলে নেতা-কর্মীরা স্বাভাবিকভাবেই প্রশ্ন করবেন।”

আরেক নেতা বলেন, “আমরা প্রধানমন্ত্রীর কাছে বিশেষ সুবিধা চাই না। আমরা শুধু চাই, দীর্ঘদিনের রাজনৈতিক কর্মীদের সম্মান দেওয়া হোক।”

তারেক রহমানের ২১ সেপ্টেম্বর নিউইয়র্কে পৌঁছানোর সম্ভাবনা ঘিরে রাজনৈতিক উত্তেজনাও বাড়ছে।

সংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, আওয়ামী লীগ-সংশ্লিষ্ট নেতা-কর্মীরা নিউইয়র্কের জন এফ. কেনেডি আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে শান্তিপূর্ণ বিক্ষোভের প্রস্তুতি নিচ্ছেন। যুক্তরাষ্ট্রের বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য থেকেও লোকজন নিউইয়র্কে আসতে পারেন বলে জানা গেছে।

এই সম্ভাব্য কর্মসূচিকে কেন্দ্র করে বিএনপি নেতা-কর্মীদের মধ্যেও প্রস্তুতি চলছে।

কিন্তু এখানেই উঠছে আরেকটি প্রশ্ন:

প্রধানমন্ত্রীর সফরের সময় যদি রাজনৈতিক প্রতিপক্ষের বিক্ষোভ মোকাবিলায় মাঠে থাকতে হয় দলীয় নেতা-কর্মীদের, তাহলে তাঁর নাগরিক সংবর্ধনা আয়োজনে তাদের ভূমিকা কেন থাকবে না?

বিএনপি, যুবদল, ছাত্রদল ও জাসাসের নেতা-কর্মীদের একটি অংশের এমন প্রশ্নই এখন আলোচনায়।

বিএনপির কয়েকজন নেতা বর্তমান পরিস্থিতির সঙ্গে আওয়ামী লীগ সরকারের শেষ দিকের যুক্তরাষ্ট্র সফরের সময়কার ঘটনাগুলোর তুলনা করছেন।

তাদের অভিযোগ, সে সময় যুক্তরাষ্ট্র আওয়ামী লীগের নামে আয়োজিত বিভিন্ন অনুষ্ঠানে দলীয় নেতা-কর্মীদের চেয়ে রাষ্ট্রদূত, কূটনীতিক ও সরকারি কর্মকর্তাদের বেশি প্রাধান্য দেওয়া হতো।

এখন বিএনপি সরকারের সময় একই ধরনের ব্যবস্থা নেওয়া হলে সেটি রাজনৈতিকভাবে অস্বস্তিকর বার্তা দেবে বলে মনে করছেন তারা।

যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির সাংগঠনিক দুর্বলতাও বর্তমান বিরোধের অন্যতম কারণ বলে মনে করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

সংশ্লিষ্টদের তথ্য অনুযায়ী, ২০১২ সালের পর থেকে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপির কেন্দ্রীয় কমিটি না থাকায় বিভিন্ন অঙ্গরাজ্য ও শহরভিত্তিক কমিটির মাধ্যমে দলীয় কর্মকাণ্ড পরিচালিত হচ্ছে।

নিউইয়র্ক, নিউজার্সি, পেনসিলভেনিয়া, ওয়াশিংটন ডিসি, ভার্জিনিয়া, মেরিল্যান্ড, জর্জিয়া, ফ্লোরিডা, মিশিগান, টেক্সাস, ইলিনয়, ক্যালিফোর্নিয়া ও কানেকটিকাটসহ বিভিন্ন অঙ্গরাজ্যে বিএনপির সাংগঠনিক কাঠামো রয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

তাদের অভিযোগ, এসব কমিটির নেতা-কর্মীরাও এবার প্রধানমন্ত্রীর নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন থেকে অনেকটাই বাইরে।

ফলে পুরনো বিভক্তি নতুন করে প্রকাশ্যে আসার আশঙ্কা করছেন দলটির নেতা-কর্মীরা।

নিউইয়র্ক স্টেট বিএনপির সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট জসিম উদ্দিন ভিপি জানান, বিএনপির কেন্দ্রীয় আন্তর্জাতিক বিষয়ক সম্পাদক আনোয়ার হোসেন খোকন প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের সফরসংক্রান্ত বিষয়গুলো দেখভাল করছেন।

তিনি বলেন, কেন্দ্রের নির্দেশনা অনুযায়ী নেতা-কর্মীরা মাঠে থাকবেন।

প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমানের নিউইয়র্ক সফর ঘিরে যুক্তরাষ্ট্র বিএনপিতে এখন মূলত তিনটি প্রশ্ন ঘুরপাক খাচ্ছে—

এক. নাগরিক সংবর্ধনার আয়োজন কি দলীয় নেতা-কর্মীদের নেতৃত্বে হবে, নাকি সরকারি-কূটনৈতিক ব্যবস্থাপনায়?

দুই. সম্ভাব্য আড়াই লাখ ডলারের বাজেটের যৌক্তিকতা কী এবং অর্থের উৎস কী?

তিন. দীর্ঘদিন ধরে যুক্তরাষ্ট্রে বিএনপির আন্দোলন-সংগ্রামে থাকা নেতা-কর্মীরা প্রধানমন্ত্রীর সফরে কতটা সম্পৃক্ত হওয়ার সুযোগ পাবেন?

তারেক রহমানের সফরের দিন যত ঘনিয়ে আসছে, ততই এই প্রশ্নগুলো সামনে আসছে। এখন অপেক্ষা—শেষ পর্যন্ত কূটনৈতিক প্রটোকল, সরকারি ব্যবস্থাপনা ও দলীয় রাজনীতির মধ্যে ভারসাম্য কীভাবে তৈরি করা হয়।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ