Friday, 30 October 2026 |
শিরোনাম
কূটনৈতিক তৎপরতায় সাফল্য, এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর বাড়তি সময় পেল বাংলাদেশ নিউইয়র্কে ন্যাশনাল ইমিগ্র্যান্টস ডে উদ্‌যাপন; বিভিন্ন ক্ষেত্রে অবদানের স্বীকৃতি, সম্মাননা পেলেন সাত বিশিষ্ট ব্যক্তি নিউইয়র্কের জেএমসির সম্প্রসারণ প্রকল্প ফান্ডরেইজিংয়ে প্রায় ১০ লাখ ডলার সংগ্রহ, বাকি প্রয়োজন আরও ২০ লাখ যুক্তরাষ্ট্রের নিউ জার্সিতে উৎসবমুখর পরিবেশে দুর্গাপূজা উদযাপিত New York Attorney General James Secures More Than $480,000 and Debt Relief for New York Homeowners নিউইয়র্কে বাংলাদেশ সোসাইটির নির্বাচন আরও পিছোল, ১৭ ডিসেম্বরের মধ্যে উভয় পক্ষকে বক্তব্যের সমর্থনে তথ্য-উপাত্ত জমার নির্দেশ আমরাও একদিন মরে যাবো নিউইয়র্কে আবেয়া -এর দ্বিবার্ষিক সম্মেলন ও ফ্যামিলি নাইট: প্রযুক্তি সেমিনার, জব ফেয়ার, বিজ্ঞান মেলা ও সাংস্কৃতিক উৎসব নিউইয়র্কে আবেয়া’র দ্বিবার্ষিক সম্মেলন অনুষ্ঠিত: প্রকৌশলী-স্থপতীদের মিলনমেলা নিউইয়র্কে নৃত্যশিল্পী তাহসিন ফেরদৌসের অকালমৃত্যু, শোকের ছায়া সাংস্কৃতিক অঙ্গনে Global Anticipation Builds as Dr. Mostofa Sarwar’s Sunflower Wounds Debuts with Successful Houston Open House and Worldwide Pre-Order Milestone
সব ক্যাটাগরি

কূটনৈতিক তৎপরতায় সাফল্য, এলডিসি উত্তরণে ৩ বছর বাড়তি সময় পেল বাংলাদেশ

অনলাইন ডেস্ক পঠিত: 68 বার

প্রকাশিত: October 30, 2026 | 3:36 am

নিউজ২৪ইউএসএ.কম, নিউইয়র্ক : স্বল্পোন্নত দেশের (এলডিসি) তালিকা থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের প্রস্তুতিকাল আরও তিন বছর বাড়ানোর প্রস্তাব সর্বসম্মতিক্রমে অনুমোদন করেছে জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদ। এর ফলে এলডিসি থেকে বাংলাদেশের উত্তরণের নতুন সময়সীমা নির্ধারিত হয়েছে ২০২৯ সালের ২৪ নভেম্বর। বাড়তি এই সময়কে কাজে লাগিয়ে অর্থনীতির সক্ষমতা বৃদ্ধি, রপ্তানি বহুমুখীকরণ এবং উত্তরণ-পরবর্তী সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলার প্রস্তুতি নেওয়ার সুযোগ পাবে বাংলাদেশ।

বৃহস্পতিবার (২৯ অক্টোবর) জাতিসংঘের সাধারণ পরিষদে বাংলাদেশের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর প্রস্তাবটি গৃহীত হয়। সরকারের পক্ষ থেকে এটিকে একটি গুরুত্বপূর্ণ কূটনৈতিক অর্জন হিসেবে বিবেচনা করা হচ্ছে। সংশ্লিষ্টদের মতে, বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা ও দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক বাস্তবতায় অতিরিক্ত তিন বছর বাংলাদেশের জন্য বিশেষ তাৎপর্যপূর্ণ। বিশেষ করে এলডিসি উত্তরণের পর বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যসুবিধা ও উন্নয়ন সহায়তা হারানোর সম্ভাব্য প্রভাব মোকাবিলায় এ সময় কার্যকর ভূমিকা রাখতে পারে।

জাতিসংঘে বাংলাদেশের স্থায়ী প্রতিনিধি রাষ্ট্রদূত আইরিন জুবাইদা খান এ সিদ্ধান্তের প্রেক্ষাপটে বলেন, “বাংলাদেশ এলডিসি থেকে উত্তরণ করছে শুধু আন্তর্জাতিক প্রক্রিয়ার কারণে নয়, বরং উত্তরণ আমাদের জনগণের আকাঙ্ক্ষা। এটি একটি জাতীয় অপরিহার্যতা এবং আমাদের সরকার এ লক্ষ্য অর্জনে দৃঢ়প্রতিজ্ঞ।”

নতুন সরকার দায়িত্ব গ্রহণের পর গত ১৮ ফেব্রুয়ারি বাংলাদেশ আনুষ্ঠানিকভাবে এলডিসি উত্তরণের প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর আবেদন করে। আবেদনে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা, ভূরাজনৈতিক উত্তেজনা, আন্তর্জাতিক বাণিজ্যের পরিবর্তিত পরিস্থিতি, জ্বালানি ও সরবরাহব্যবস্থার ঝুঁকি এবং দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনৈতিক চ্যালেঞ্জের বিষয়গুলো তুলে ধরা হয়।

বাংলাদেশের আবেদনের পর জাতিসংঘের উন্নয়ন নীতিবিষয়ক কমিটি (সিডিপি) বিষয়টি পর্যালোচনা করে প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে সুপারিশ করে। পরবর্তী সময়ে গত ২১ জুলাই জাতিসংঘের অর্থনৈতিক ও সামাজিক পরিষদ (ইকোসক) প্রস্তাবটি চূড়ান্ত অনুমোদনের জন্য সাধারণ পরিষদে পাঠায়। সর্বশেষ সাধারণ পরিষদের সর্বসম্মত অনুমোদনের মধ্য দিয়ে বাংলাদেশের আবেদন বাস্তবায়নের পথ সুগম হলো।

প্রস্তুতিকাল বাড়ানোর পক্ষে কূটনৈতিক তৎপরতার অংশ হিসেবে সরকার তিন বছর মেয়াদি একটি কর্মপরিকল্পনাও প্রণয়ন করেছে। এতে প্রতি বছরের জন্য সুনির্দিষ্ট কর্মসূচি ও লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। বর্ধিত সময়ে অর্থনীতির কাঠামোগত দুর্বলতা দূর করা, রপ্তানি পণ্যে বৈচিত্র্য আনা, অবকাঠামো ও সরবরাহব্যবস্থার উন্নয়ন এবং প্রয়োজনীয় অর্থনৈতিক সংস্কার বাস্তবায়নে গুরুত্ব দেওয়া হবে।

উল্লেখ্য, এলডিসি থেকে উত্তরণের পর বাংলাদেশ আন্তর্জাতিক বাণিজ্যে বিদ্যমান কিছু অগ্রাধিকারমূলক সুবিধা হারানোর ঝুঁকিতে পড়তে পারে। এতে বিশেষ করে তৈরি পোশাকসহ রপ্তানিনির্ভর শিল্প, বিনিয়োগ ও কর্মসংস্থানে প্রভাব পড়ার আশঙ্কা রয়েছে। পাশাপাশি উন্নয়ন সহযোগিতার কিছু বিশেষ সুবিধাও পরিবর্তিত হতে পারে।

এ অবস্থায় অতিরিক্ত তিন বছরকে কেবল উত্তরণ পিছিয়ে দেওয়ার সময় হিসেবে না দেখে অর্থনীতির প্রতিযোগিতামূলক সক্ষমতা বাড়ানোর সুযোগ হিসেবে কাজে লাগানোই হবে বাংলাদেশের জন্য বড় চ্যালেঞ্জ। নির্ধারিত কর্মপরিকল্পনা বাস্তবায়ন, রপ্তানি বাজার সম্প্রসারণ এবং টেকসই অর্থনৈতিক সংস্কারের মাধ্যমে ২০২৯ সালের উত্তরণকে সফল ও কার্যকর করাই এখন সরকারের সামনে প্রধান লক্ষ্য।

বিজ্ঞাপন / স্পন্সরড কন্টেন্ট
সর্বশেষ সংবাদ